হাওজা নিউজ এজেন্সি: প্রখ্যাত শিয়া আলেম শাইখ মুফিদ (রহ.) লাইলাতুল মাবীতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করে লিখেছেন—
شهر ربيع الأول أول ليلة منه هاجر رسول الله صلى الله عليه وآله من مكة إلى المدينة سنة ثلاث عشرة من مبعثه، وكانت ليلة الخميس. وفيها كان مبيت أمير المؤمنين علي بن أبي طالب عليه السلام على فراش رسول الله صلى الله عليه وآله ومواساته له بنفسه، حتى نجا عليه السلام من عدوه، فحاز بذلك أمير المؤمنين عليه السلام شرف الدنيا والدين، وأنزل الله تعالى مدحه لذلك في القرآن المبين، وهي ليلة فيها عظيم الفخر لمولى المؤمنين، بما يوجب مسرة أوليائه المخلصين.
রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশে হিজরত করেন। এটি ছিল তাঁর পবিত্র বেহসতের ত্রয়োদশ বছর এবং রাতটি ছিল বৃহস্পতিবার। সেই রাতেই আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শয্যায় শয়ন করেন এবং নিজের জীবন দিয়ে তাঁর প্রতি আত্মত্যাগের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এর ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর শত্রুদের হাত থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমিরুল মুমিনিন (আ.) দুনিয়া ও দ্বীনের মর্যাদা অর্জন করেন। মহান আল্লাহও এ মহান আত্মত্যাগের কারণে পবিত্র কুরআনে তাঁর প্রশংসা ও মর্যাদা প্রকাশ করেছেন। মুমিনদের অভিভাবক হযরত আলী (আ.)-এর জন্য এটি এক মহাগৌরবের রাত—যা তাঁর একনিষ্ঠ অনুসারীদের হৃদয়ে আনন্দ ও প্রেরণা জাগায়।”
সূত্র: শাইখ মুফিদ (রহ.), মাসারুশ শিয়া, পৃ. ৪৮।
লাইলাতুল মাবীতের তাৎপর্য
লাইলাতুল মাবীত শুধু ইসলামের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় রাত নয়; এটি ঈমান, আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও রাসুলপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও ইসলামের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য হযরত আলী (আ.) নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে—আল্লাহর রাসুল (সা.) ও দ্বীনের স্বার্থে একজন মুমিন কীভাবে নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারেন।
আপনার কমেন্ট